ব্যাটারদের ব্যর্থতার মিছিলে শক্ত হাতে দাঁড়িয়ে গেলেন লিটন কুমার দাস। লেজের সারির ব্যাটারদের নিয়ে লড়াকু ব্যাটিংয়ে তিনি পেলেন সেঞ্চুরির উষ্ণ ছোঁয়া। কিন্তু বাকিদের হতাশায় বেশি বড় হলো না পুঁজি। তাই দিন শেষে এগিয়েই রইল পাকিস্তান।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম দিনে লিটনের সেঞ্চুরির পরও ২৭৮ রানে অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। পরে ৬ ওভারের জন্য ব্যাটিংয়ে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান করেছে পাকিস্তান।
প্রথম সেশনে ২৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান করেছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে পরের সেশনে ২৮ ওভার খেলে মাত্র ৬৭ রান করতে আরও ৩ উইকেট হারিয়েছে তারা। শেষ সেশনে ২৩ ওভার খেলে বাকি ৪ উইকেটে ১১০ রান করে স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশকে আড়াইশ পার করানোর কারিগর লিটন। একপর্যায়ে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। সেখান থেকে বাকি ৪ উইকেটে তারা করে আরও ১৬২ রান। যেখানে লিটনের একার অবদান ১২৪ রান।
টেস্ট ক্যারিয়ারে লিটনের এটি ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে তার সেঞ্চুরি হয়ে গেল ৩টি। এই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটারের একটির বেশি সেঞ্চুরি নেই।
মেঘাচ্ছন্ন সকালে কয়েনভাগ্য পাশে পান পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। বাবর আজমকে ফেরানোর পাশাপাশি মোট তিন পরিবর্তন নিয়ে আগে ফিল্ডিং নেন তিনি। অধিনায়কের সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করে প্রথম দিনই বাংলাদেশকে গুটিয়ে দিয়েছে বোলাররা।
সাদমান ইসলামের চোটে এই ম্যাচ দিয়ে টেস্ট অভিষেক হয় তানজিদ হাসান তামিমের। বাংলাদেশের ১০৯তম ক্রিকেটার হিসেবে অভিজাত সংস্করণে খেলতে নেমে শুরুটা ইতিবাচক করেন বাঁহাতি ওপেনার। কিন্তু ইনিংস টেনে নিতে পারেননি তিনি।
অন্য প্রান্তে শুরুতেই ফেরেন আরেক ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। ইনিংসের প্রথম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের দ্বিতীয় বলে আরও একবার খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। ২২ টেস্টের ক্যারিয়ারে এ নিয়ে ৮ বার শূন্য রানে ফিরলেন তরুণ এই ওপেনার।
পরে মুমিনুল হককে নিয়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন তামিম। ইতিবাচক ব্যাটিং করে প্রতি ওভারে গড়ে চারের বেশি রান নিতে থাকেন দুই বাঁহাতি ব্যাটার। তবে বেশিক্ষণ টানতে পারেনি এই জুটি। আব্বাসের শর্ট বলে আলগা শট খেলতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দেন তামিম।
অভিষেক ইনিংসে ৩ চারে ৩৪ বলে ২৬ রান করে ফেরেন বাঁহাতি ওপেনার।
এরপর মুমিনুল বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শাহিন শাহ আফ্রিদির জায়গায় একাদশে ফিরে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকে দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড করেন খুররাম। আগের পাঁচ ইনিংসেই ফিফটি করা মুমিনুল এদিন ৪১ বলে করতে পারেন ২২ রান।
সেশনের বাকি অংশে আর বিপদ ঘটতে দেননি শান্ত ও মুশফিক। শান্ত ৫১ বলে ২৬ ও মুশফিক ৩১ বলে ১৮ রানে দ্বিতীয় সেশনের খেলা শুরু করেন। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির পর একদমই সুবিধা করতে পারেননি তারা দুজন।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে ভাগ্যের জোরে বেঁচে যান মুশফিক। সাজিদ খানের অফ স্পিন তার গ্লাভস ছুঁয়ে উইকেটকিপারের হাতে গেলেও আউট দেননি আম্পায়ার। জোরাল আবেদনের পরও রিভিউ নেয়নি পাকিস্তান। তাই ১৮ রানে বেঁচে যান অভিজ্ঞ ব্যাটার।
তবে বেশিক্ষণ তিনি টিকতে পারেননি। খুররাম শাহজাদের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন ২৩ রান করা মুশফিক। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি তার। রিপ্লেতে দেখা যায়, লেগ স্টাম্প হালকা ছুঁয়ে যেত বল। অর্থাৎ আম্পায়ার্স কল।
মুশফিক ফেরার আগে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন শান্ত। আব্বাসের চমৎকার আউটসুইং ডেলিভারিতে খোঁচা মেরে কট বিহাইন্ড হন ৭৪ বলে ২৯ রান করা বাংলাদেশ অধিনায়ক। বামে নিচু হয়ে দারুণ ক্যাচ নেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।
দলের বিপদ আরও বাড়িয়ে শাহজাদের শর্ট বলে দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো অযথা পুল শট খেলে ফাইন লেগ সীমানায় ক্যাচ দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মাত্র ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে তখন বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
সেখান থেকে দলের হাল ধরেন লিটন ও তাইজুল। দুজন মিলে সপ্তম উইকেটে গড়েন ৬০ রানের জুটি। যেখানে তাইজুলের অবদান শুধু ১৬ রান। লিটনের ফিফটির কিছুক্ষণ আগে সাজিদের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তাইজুল।
এরপর তাসকিন আহমেদকে নিয়ে আবার লড়াই শুরু করেন লিটন। ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটি পূরণ করে কিছুটা মনোসংযোগ হারান তিনি। তাতেই ঘটতে পারত বিপদ। তবে পাকিস্তানের ভুল সিদ্ধান্তে বেঁচে যান লিটন।
ইনিংসের ৬১তম ওভারে শাহজাদের পুল করতে গিয়ে লিটনের গ্লাভস ছুঁয়ে বল যায় উইকেটকিপারের হাতে। কিন্তু সাড়া দেননি আম্পায়ার। জোরাল আবেদনের পরও রিভিউ নেয়নি পাকিস্তান। তাই বেঁচে যান লিটন। পরে করেন চমৎকার এক সেঞ্চুরি।
তাসকিনের সঙ্গে লিটনের জুটিতে আসে ৩৮ রান। শাহজাদের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন ৭ রান করা তাসকিন। পরে শরিফুলকে নিয়ে এগোতে থাকেন লিটন। পরিস্থিতি বুঝে ওভারের চতুর্থ, পঞ্চম বা শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে বেশিরভাগ সময় স্ট্রাইক নিজের কাছেই রাখেন তিনি।


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আশা করি এভাবেই আমাদের সাথে থাকবেন। সকল খবর আপনাদের মাঝে পৌঁছে দিতে যে GSN Sports সাথেই আছে।