টেস্টে বাংলাদেশের উন্নতিতে যাদের কৃতিত্ব দিলেন মুশফিক

রাত পোহালেই মাঠে গড়াচ্ছে সিলেট টেস্ট। মিরপুর টেস্টে দারুণ জয়ের পর বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে বাংলাদেশ দল। সিলেটেও জিততে পারলে একদম ষোলকলা পূর্ণ করে হারানো যাবে পাকিস্তানকে। তবে ড্র করলেও সিরিজ জেতা যাবে। যদিও বাংলাদেশ জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে। নতুন ধাঁচের, নতুন দিগন্তের টেস্ট ক্রিকেটে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। যেখানে জয়ই শেষ কথা। গত কয়েক বছরে টেস্টে ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে টাইগাররা। পাকিস্তানকে টেস্টে তাদের মাঠেই হোয়াইটওয়াশ করে দিয়ে এসেছে, জয় পেয়েছে জ্যামাইকাতে, জয় এসেছে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে। দারুণ স্মরণীয় সব জয়ের পর এবার ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে আরও একবার কাবু করার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ যাত্রায় অনেক ক্রিকেটারকেই পেয়েছে বাংলাদেশ দল। মুশফিকুর রহিম তাদের মধ্যে অন্যতম। ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলে দিয়ে আপাতত টেস্টই খেলে যাচ্ছেন মুশফিক। সাথে দুই অভিজ্ঞ টেস্ট ক্রিকেটার তকমা পাওয়া মুমিনুল হক এবং তাইজুল ইসলামও রয়েছেন। যারা দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বেশিরভাগ সময় খেলেছেন টেস্ট ক্রিকেটই। সিলেট টেস্টের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে মুমিনুল-তাইজুলকে বড় কৃতিত্ব দিলেন মুশফিকুর রহিম। মুশফিক বলেছেন, ‘পরিবেশ খুবই ভালো। আমার ক্যারিয়ার প্রায় শেষ। প্রতিটি দিনই ব্লেসিং। আমি খুব উপভোগ করছি। আমি টেস্টকে সবসময় প্রাধান্য দেই। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট এতদূর আসার পেছনে ২ জনের অনেক বড় অবদান। একজন মুমিনুল, একজন তাইজুল। আমি ২-৩ বছর ধরে এক ফরম্যাট খেলছি। ওদের পেইনটা এখন বুঝতে পারছি। ওরা প্রায় ১০-১২ বছর কোনো অভিযোগ ছাড়া দিনের পর দিন কাজটা করে গেছে। এটা সহজ নয়। আমি যতটুকুই খেলি, ঐ দুজনের দিকে তাকালে বেশি ভালো লাগে। আমি কন্ট্রিবিউট করতে পারলে ওদের হাসি, খুশিটা দ্বিগুণ হয়ে যায়। দলের আবহাওয়া খুবই পজিটিভ। এখানে ধারাবাহিক পারফর্মারের সংখ্যাই বেশি। যেকোনো চ্যালেঞ্জ আসলে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। গত ৬-৭ বছরে এটা বড় পরিবর্তন।’ মুশফিক আরও বলেছেন, ‘তাদের কষ্ট দেখে এখন অনুধাবন হচ্ছে। তবে আমি আমার পরিবারকে বেশি সময় দিতে পারছি যা গত ১৫-১৬ বছরে দিতে পারিনি। এটাও বড় পাওয়া। যে কদিনই খেলব চেষ্টা করব যেন কন্ট্রিবিউট করতে পারি, টেস্ট দলকে দারুণ কিছু জয়ের মুহূর্ত দিতে পারি। অবসরের পর যেন একটু হলেও গর্ব করতে পারি।’ নিজের ক্যারিয়ার শেষ দিকে, তা বেশ ভালো করেই জানেন মুশফিক। বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মুশফিক বলেছেন, ‘না এমন কিছু না, মৃত্যুর আগে শেষ কিছু দিন বেঁচে থাকার খুব ইচ্ছা। যে কয়টা দিন মাঠে কাটাতে পারি। ছাড়ব বা কবে ছাড়ব সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে ভালো সময় থাকতেই ইনশাআল্লাহ ছেড়ে দিব।’ এছাড়া ভালো পারফরম্যান্সের পরেও একাদশে সুযোগ না পাওয়া নাঈম হাসানের ব্যাপারে মুশফিক জানান, ‘শুধু বাংলাদেশে না। সব দলে এমন এক-দুইজন থাকে। এমন পারফরম্যান্স থাকে না যার জন্য দলের বাইরে থাকবে, হয়ত কম্বিনেশনের কারণে। মুরালি (মুত্তিয়া মুরালিধরন) যেভাবে ৮০০ উইকেট পেয়েছে, (রঙ্গনা) হেরাথ সেভাবে জীবনেও চিন্তা করেনি সে ৪০০+ উইকেট পাবে। সে যদি ভাবত ওর কোনো দিন সুযোগ আসবে না… নাঈম প্রতিদিন নিজের কাজ করে, ধার বাড়াতে চায়, ব্যাটিংয়েও উন্নতির চেষ্টা করে। যা দেখে আমি মুগ্ধ। এটা আসলেই খুব কঠিন। ভালো খেলেও যখন বাইরে থাকবেন, এক্সট্রা মোটিভেটেড হওয়াও কঠিন। ইনশাআল্লাহ নিজের জায়গা নিজে নিজেই সামনে বানিয়ে নিতে পারবে।’

মন্তব্যসমূহ