১৭ জনের স্কোয়াড নিয়ে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ

৪ মাস মাঠের বাইরে, তবু ১৭ খেলোয়াড়কে নিয়েই বিশ্বকাপ মিশনে ইরান বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত দল ইরানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সম্ভাব্য বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ১৭ জন ফুটবলার প্রায় চার মাস ধরে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলতে পারেননি। তবুও এই খেলোয়াড়দের নিয়েই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির জাতীয় দল।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং ফুটবল কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার কারণে অনেক খেলোয়াড় নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের আগে তাদের ম্যাচ ফিটনেস ও ছন্দ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় দ্রুত মানিয়ে নেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে ইরান ফুটবল ফেডারেশন ও কোচিং স্টাফ বিষয়টিকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। তাদের বিশ্বাস, জাতীয় দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পারবেন। ইরানের স্কোয়াডে এমন বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় রয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের ফুটবলের অন্যতম ভরসা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন।
বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থাকায় ইরানের অংশগ্রহণ নিয়েও এক সময় নানা আলোচনা তৈরি হয়েছিল। নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন দেশটির ফুটবল কর্মকর্তারা। এমনকি কিছু ম্যাচ অন্য ভেন্যুতে আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে সব জটিলতা কাটিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, চার মাস মাঠের বাইরে থাকা ১৭ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে নামা অবশ্যই একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ম্যাচ ফিটনেস, গতি, সমন্বয় এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার ঘাটতি দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে অভিজ্ঞতা, শৃঙ্খলাবোধ এবং কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই করার মানসিকতা ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। সব মিলিয়ে, নানা প্রতিকূলতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিশ্বকাপ মিশনে এগিয়ে যাচ্ছে ইরান। দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা ১৭ ফুটবলারকে নিয়েই দলটি বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিকে কতটা সফলভাবে সামাল দিতে পারে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল পরাশক্তি।

মন্তব্যসমূহ